ওয়ালমার্ট কীভাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানি হলো?

বিশ্বের খুচরা ব্যবসার ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে ওয়ালমার্ট বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার। এই প্রথম কোনো রিটেইল কোম্পানি এমন বিশাল বাজারমূল্যে পৌঁছাল, যা আগে শুধু বড় প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ওয়ালমার্টের শেয়ারদর প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি এনভিডিয়া, অ্যালফাবেট এবং অন্যান্য বিগ টেক কোম্পানির কাতারে জায়গা করে নিয়েছে। এই উত্থান শুধু শেয়ারবাজারের সাফল্য নয়, বরং এটি ওয়ালমার্টের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশলের ফল।


walmart market value 1 trillion dollars, walmart ai technology business growth

ওয়ালমার্টের সাফল্যের বড় কারণ হলো, তারা একসঙ্গে উচ্চ আয়ের ক্রেতা এবং নিম্ন আয়ের ক্রেতা দুই পক্ষকেই ধরে রাখতে পেরেছে। একদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য পণ্য সহজলভ্য করেছে, অন্যদিকে উন্নত সেবা ও সুবিধার মাধ্যমে স্বচ্ছল গ্রাহকদেরও আকৃষ্ট করেছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলই ওয়ালমার্টকে অন্য খুচরা বিক্রেতাদের থেকে আলাদা করেছে।

ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়ালমার্ট অনলাইন মার্কেটপ্লেস, দ্রুত ডেলিভারি ব্যবস্থা, ওয়ালমার্ট প্লাস সাবস্ক্রিপশন এবং বিজ্ঞাপন ব্যবসার সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানটির আয়ের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন শপিং ও একই দিনে পণ্য সরবরাহের সুবিধা গ্রাহকদের আস্থাকে আরও শক্ত করেছে। এর ফলে ওয়ালমার্ট এখন শুধু একটি অফলাইন সুপারস্টোর নয়, বরং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক আগেই ওয়ালমার্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারে বড় বিনিয়োগ শুরু করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও চাহিদা বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে দোকানে তাজা পণ্য রাখা সহজ হয়েছে, অপচয় কমেছে এবং ডেলিভারি হয়েছে আরও দ্রুত। একই সঙ্গে গ্রাহকের কেনাকাটার ধরণ বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়েছে, যা ওয়ালমার্টকে প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।


এলএসইজ এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ালমার্টের যেসব দোকান আগে থেকেই চালু ছিল, সেগুলোর বিক্রি টানা প্রায় চার বছর ধরে বাজারের ধারণার চেয়েও বেশি হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিই প্রমাণ করে যে, ওয়ালমার্টের ব্যবসায়িক মডেল শুধু শক্তিশালী নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, ডাটা ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবায় এই জোরালো বিনিয়োগই ওয়ালমার্টকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে পৌঁছে দিয়েছে। প্রযুক্তির বিশ্ব বাংলা টেক ব্লগে এই পোস্ট সম্পর্কে নিচে কমেন্ট করে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভাল থাকুন সবসময়।

এই পোস্টটির সম্পর্কে আপনার মতামত, প্রশ্ন অথবা কিছু জানতে বা জানাতে চাইলে অনুগ্রহ করে নিচে আপনার মন্তব্যটি লিখুন।
ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই পোস্টটির সম্পর্কে আপনার মতামত, প্রশ্ন অথবা কিছু জানতে বা জানাতে চাইলে অনুগ্রহ করে নিচে আপনার মন্তব্যটি লিখুন।
ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)

নবীনতর পূর্বতন